মুর্শিদাবাদে একের পর এক স্টেশনে ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংবাদ মাধ্যম এবং হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা মাধ্যমগুলি। বাংলার মুসলিম সমাজকে হিংস্র এবং দেশবিরোধী প্রমান করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল ভাঙচুর করা এবং আগুন লাগানো স্টেশনের ফটো এবং ভিডিওগুলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছিলো “লুঙ্গি বাহিনীর” তাণ্ডবের বিভিন্ন বর্ণনা। কিন্তু হঠাৎ করেই উল্টো খবর আসতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদ থেকে। যেখানে স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত এক যুবক এবং পাঁচজন সহযোগীকে লুঙ্গি ও মাথায় টুপি পড়ে ট্রেনের ইঞ্জিনে পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগে বুধবার আটক করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার কথা উল্লেখ না করেই অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে তাদের কর্মীদের জন্য টুপি কিনে তাদেরকে রাস্তায় তান্ডব করতে পাঠাচ্ছে। উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার বলেছিলেন যে নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের “তাদের পোশাক দ্বারা চিহ্নিত করা যেতে পারে”। তাই মুসলিমদের পোশাক পরেই মুসলিমদেরকে বদনাম করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ব বাহিনীর লোকজন।
মুর্শিদাবাদ জেলার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনে যাত্রা করে শিয়ালদহগামী ট্রায়াল ইঞ্জিনে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে রাধামধাবতলা গ্রামের বাসিন্দারা ছয় যুবককে ধরে ফেলে এবং তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা জানান, ছয়জনের মধ্যে স্থানীয় বিজেপি কর্মী অভিষেক সরকারও রয়েছে।
জেলা পুলিশ প্রধান মুকেশ বলেন, “যুবকরা দাবি করেছে যে তারা তাদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিওর শুটিং করতে লুঙ্গি এবং টুপি পরেছিল। তবে এ জাতীয় কোনও চ্যানেলের অস্তিত্ব প্রমাণ তারা করতে পারেনি, ”
রাধামধবতলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী শিরিসনগরের বাসিন্দা অভিষেককে স্থানীয় সমস্ত বিজেপি সমাবেশে সর্বাগ্রে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে অভিষেক সরকার দলীয় কর্মী ছিলেন তবে বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরী সরকার ঘোষ বলেছেন: “তিনি আমাদের দলের সদস্য নন। রাধাধাবতলায় ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। ”

No comments:
Post a Comment