Friday, December 20, 2019

মুর্শিদাবাদে লুঙ্গি ও টুপি পরে মুসলিম সেজে ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনায় গ্রেফতার ৬ বিজেপি কর্মী

মুর্শিদাবাদে একের পর এক স্টেশনে ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংবাদ মাধ্যম এবং হিন্দুত্ববাদী প্রচারণা মাধ্যমগুলি। বাংলার মুসলিম সমাজকে হিংস্র এবং দেশবিরোধী প্রমান করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল ভাঙচুর করা এবং আগুন লাগানো স্টেশনের ফটো এবং ভিডিওগুলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছিলো “লুঙ্গি বাহিনীর” তাণ্ডবের বিভিন্ন বর্ণনা। কিন্তু হঠাৎ করেই উল্টো খবর আসতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদ থেকে। যেখানে স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত এক যুবক এবং পাঁচজন সহযোগীকে লুঙ্গি ও মাথায় টুপি পড়ে ট্রেনের ইঞ্জিনে পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগে বুধবার আটক করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ।
 বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার কথা উল্লেখ না করেই অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে তাদের কর্মীদের জন্য টুপি কিনে তাদেরকে রাস্তায় তান্ডব করতে পাঠাচ্ছে। উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার বলেছিলেন যে নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের “তাদের পোশাক দ্বারা চিহ্নিত করা যেতে পারে”। তাই মুসলিমদের পোশাক পরেই মুসলিমদেরকে বদনাম করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ব বাহিনীর লোকজন।
 মুর্শিদাবাদ জেলার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শিয়ালদহ-লালগোলা লাইনে যাত্রা করে শিয়ালদহগামী ট্রায়াল ইঞ্জিনে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে রাধামধাবতলা গ্রামের বাসিন্দারা ছয় যুবককে ধরে ফেলে এবং তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারা জানান, ছয়জনের মধ্যে স্থানীয় বিজেপি কর্মী অভিষেক সরকারও রয়েছে।
 জেলা পুলিশ প্রধান মুকেশ বলেন, “যুবকরা দাবি করেছে যে তারা তাদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিওর শুটিং করতে লুঙ্গি এবং টুপি পরেছিল। তবে এ জাতীয় কোনও চ্যানেলের অস্তিত্ব প্রমাণ তারা করতে পারেনি, ”
  রাধামধবতলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী শিরিসনগরের বাসিন্দা অভিষেককে স্থানীয় সমস্ত বিজেপি সমাবেশে সর্বাগ্রে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে অভিষেক সরকার দলীয় কর্মী ছিলেন তবে বিজেপির জেলা সভাপতি গৌরী সরকার ঘোষ বলেছেন: “তিনি আমাদের দলের সদস্য নন। রাধাধাবতলায় ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। ”

Sunday, December 15, 2019

সতর্কতা হিসাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হল: মমতা


নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার থেকেই মুর্শিদাবাদ থেকে হাওড়ার উলুবেড়িয়া দক্ষিণবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকেই হিংসার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। এবারে এই হিংসার ঘটনা দমনে কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বন্ধ রাখা হবে ইন্টারনেট পরিসেবা। কিছু বহিরাগত সাম্প্রদায়িক শক্তির উসকানির ফলে রাজ্যে হিংসার ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি।
তাই এই হিংসা রোধে মুর্শিদাবাদ,মালদহ, উত্তর দিনাজপুর,হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগণা বসিরহাট মহকুমাতেও। এছাড়াও বারাসত মহকুমা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর মহকুমা,ক্যানিং মহকুমা এর কিছু জায়গায় এই ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ থাকবে বলে রাজ্যের তরফে নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্যে এই ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ রাজ্য প্রশাসনের তরফে।
ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে উত্তাল হয়েছে অসম,ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি। সেখানেও হিংসা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে ইন্টারনেট এবং মোবাইল পরিসেবার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আগামী সোমবার পর্যন্ত।

হরিশ্চন্দ্রপুরের পর এবার ভালুকা রেল স্টেশনে ট্রেনের সামনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল স্থানীয়রা

https://youtu.be/4-6iGYdvris

Monday, December 2, 2019

রেশন তুলতে গেলে এ বার লাগবে আঙুলের ছাপ, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

 রেশন দোকানে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মাঝেমধ্যেই। কোনও কোনও সপ্তাহে চাল চিনি না দেওয়া, পরিমাণে কম দেওয়া বা রেশনের সামগ্রী বাইরে পাচার করার অভিযোগ ওঠে। এবার নতুন ব্যবস্থায় এসব দুর্নীতি ঠেকানো যাবে বলে আশাবাদী খাদ্য দফতর।

এবার রেশন তুলতে গেলে মেশিনে আঙুলের ছাপ দিতে হবে। তাতেই অনলাইনে সার্ভারের মাধ্যমে কোন রেশন দোকানে কতজন রেশন নিলেন, তা জেনে যাবে খাদ্য দফতর। এর জন্য ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করতে হবে গ্রাহকদের।

এর ফলে রেশন ডিলারের ঘরে চাল,চিনি, কেরোসিন কতটা পড়ে রয়েছে, তা রাজ্য খাদ্য দফতর জানতে পারবে কমপিউটার মাউসের এক ক্লিকেই। পরের মাসে সেই পরিমাণ সামগ্রী কম পাঠানো হবে। গণবন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।


রেশন দোকানে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মাঝেমধ্যেই। কোনও কোনও সপ্তাহে চাল চিনি না দেওয়া, পরিমাণে কম দেওয়া বা রেশনের সামগ্রী বাইরে পাচার করার অভিযোগ ওঠে। এবার নতুন ব্যবস্থায় এসব দুর্নীতি ঠেকানো যাবে বলে আশাবাদী খাদ্য দফতর।
এর জন্য ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করতে হবে। প্রতিটি রেশন দোকানে ইলেকট্রনিক প্রসেসিং সিস্টেম (ইপস) মেশিন বসানো হচ্ছে। সেই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ২০ হাজার ইপস মেশিন রেশন দোকানে বসিয়ে ফেলেছে রাজ্য সরকার। তাতে দু কোটি গ্রাহককে যুক্ত করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।
এজন্য প্রথমে গ্রাহককে বাড়ির সদস্যদের নিয়ে রেশন দোকানে যেতে হবে। সেখানে ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বর ও আঙুলের ছাপ দিতে হবে মেশিনে। সেই তথ্য মজুত থাকবে খাদ্য দফতরের সার্ভারে। এরপর প্রতি বার রেশন তোলার পর আঙুলের ছাপ দিতে হবে মেশিনে। তাতেই ধরা যাবে কত জন রেশন নিলেন। অনুপস্থিত থাকলেন কতজন। জানা যাবে মাসের শেষে কোন রেশন ডিলারের ঘরে চাল চিনি কেরোসিন সহ কত সামগ্রী মজুত রয়েছে। পরের মাসে সেই পরিমান সামগ্রী পাঠানো হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, 'এর ফলে সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন রেশন ডিলাররা।' প্রয়োজনে তাঁদের কমিশন বাড়িয়ে দেওয়া হবে। খাদ্যমন্ত্রী জানান, অনলাইনে ডিজিটাল রেশন কার্ডের আবেদন সারা বছরই করা যাবে। সবাইকে ন্যায্যমূল্যে খাদ্য দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে রাজ্য সরকার। একটি শিশু জন্ম নিলেই একটি রেশন কার্ড ইস্যু করবে সরকার। ঠিক তেমনই একজন মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেই রেশন কার্ড বাতিল করবে সরকার। নতুন পদ্ধতিতে সেকাজ আরও সহজ হবে।